,

সংবাদ শিরোনাম :

৭ কলেজে ভর্তি: চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ শিক্ষার্থীদের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর ৭টি সরকারি কলেজের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক সম্মান ও পাস কোর্সে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ভর্তিতে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে পরীক্ষা দিয়ে মেরিটে আসার পরেও ভর্তি হতে নানা বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েছেন বলে তাদের অভিযোগ।

গত ১ ডিসেম্বর কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১২ ডিসেম্বর ফলাফল প্রকাশ করা হয়। তবে এদিন শুধুমাত্র এইচএসসিতে মানবিক বিভাগে থাকা শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অন্য বিভাগ থেকে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি পরীক্ষা দেয়া শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি বলে কোনো নোটিশেও উল্লেখ করেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এরপর শিক্ষার্থীদের অভিযোগের মুখে পরদিন ১৩ ডিসেম্বর তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখার জন্য আলাদা আলাদা মেরিট প্রকাশ করা হয়। এরপর প্রথমে এইচএসসিতে মানবিকে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরকে অনলাইনে বিষয় পছন্দক্রম ফরম পুরণ করতে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রথম পর্বে তাদের ভর্তি নিশ্চয়ন শেষে ১৭ জানুয়ারি থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অনলাইনে বিষয় পছন্দক্রম ফরম পুরণ করতে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ।

গত ২০ জানুয়ারি প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী মেরিটে এগিয়ে থাকলেও কোনো বিষয় বরাদ্ধ না পেলেও কেউ কেউ পিছিয়ে থেকে বিষয় বরাদ্ধ পেয়েছে। এছাড়া কেউ কেউ মেরিটে ভাল অবস্থানে থেকেও তুলনামূলক পেছনের সারির বিষয় বরাদ্ধ পেয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ৪৫০ তম অবস্থানে থেকেও বিষয় বরাদ্ধ পায়নি মনির হোসাইন নামের এক শিক্ষার্থী। মনির বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘আমার পেছনে থেকেও অনেকে বিষয় পেয়েছে কিন্তু আমি পাইনি।’

শাকিল আনসারি নামের আরেক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী বলেন, ‘মেরিটে ৩৬৪ তম অবস্থানে থাকলেও এখনো কোনো সাড়া পাইনি।’

এছাড়া প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, মানবিক বিভাগ থেকে পড়ুয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী গণিত বিষয় পেয়েছে। নিরব খান নামের এক শিক্ষার্থী বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘এইচএসসিতে মানবিক বিভাগে পড়েও ৭ কলেজে গণিত পেয়েছি, এতেকরে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি।’

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ২১ জানুয়ারি সাক্ষাৎকারে ডাকা হলেও অনেককেই বিষয় বরাদ্ধ দিতে পারেনি ৭ কলেজ কর্তৃপক্ষ। যারা এখনও কোনো বিষয় বরাদ্ধ পায়নি তাদেরকে আবারো অনলাইনে বিষয় পছন্দক্রম ফরম পুরণ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া সাক্ষাৎকারের জন্য ২৭ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২১ তারিখে একটি কক্ষে আড়াআড়িভাবে সাক্ষাৎকার নেয়া হয় তাদের। ভর্তিচ্ছু এক শিক্ষার্থী বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘একটি রুমে সবগুলো ছাত্র-ছাত্রী একসাথে। অবস্থা এমন যে, ছেলে-মেয়ে একাকার হয়ে গিয়েছিল।’

 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২১ তারিখ সাক্ষাৎকারের জন্য দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলসহ অনেক দূর থেকে ২০ তারিখ রাতেই ঢাকা এসে পৌঁছান অনেকে। কিন্তু এদিন বিষয় বরাদ্ধ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের বলা হয় ২৭ জানুয়ারি দিন ধার্জ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ আগেই শিক্ষার্থীদের বলে দিতে পারতো, যারা বিষয় বরাদ্ধ পায়নি তাদের ২৭ তারিখে সাক্ষাৎকার। এতেকরে ২ বার আসা লাগত না বা হয়রানি হতে হত না।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় ঢাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন’র সঙ্গে। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের কিছু অভিযোগ সত্য হলেও অনেকগুলোই মিথ্যা।

তিনি বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘আমরা করতে চাচ্ছি সবার উপকার কিন্তু কিছু কথা শুনলে মাঝে মাঝে হতাশ হয়ে যাই। আমরা নিরন্তর চেষ্টা করছি। ৭ কলেজের কারণে আমাকে রাত ১টা পর্যন্ত কক্ষেই থাকতে হয়। শিক্ষার্থীরা আপনাদের কাছে অভিযোগ করবে কেন? আমার কাছে অভিযোগ করতে বলেন, আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের কাছে অভিযোগ করতে বলেন।’

মেরিটে ভাল অবস্থানে থেকেও বিষয় বরাদ্ধ না পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র ইডেন কলেজে ইংরেজীসহ তিনটা বিষয় চয়েজ দিলেতো হবে না। তাকে আমি কোথা থেকে সাবজেক্ট দেব? তারতো ওই নম্বরে আসেনি।’

তিনি জানান, অনেকেই মাত্র কয়েকটা বিষয় চয়েজ দিয়েছে। কিন্তু যেগুলোতে চয়েজ দিয়েছে সেগুলোতে তার নাম্বার দিয়ে আসেনি। এজন্য তারা বিষয় বরাদ্ধ পায়নি।

তিনি বলেন, ‘তারপরেও আমরা সিট দিতে পারব, কারণ অনেক সিট আছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের এই ডীন বলেন, ‘ভর্তি না রেখে কি আমি সিটগুলো ফাঁকা রাখবো? ফাঁকা রাখলেতো আপনারাই বলবেন কেন এতগুলো সিট ফাঁকা। যারা আমার ইউনিটে আসবে সবকিছুর শেষেই আসবে। ক্লাস শুরু হয়ে গেলেও কোনো অসুবিধা নেই। কারণ, প্রথম দিকে কোনো ক্লাস হয় না।’

মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের গণিত বিষয় বরাদ্ধ পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভর্তি নির্দেশিকায় দেয়া ছিল, এইচএসসিতে যাদের গণিত বিষয় ছিল এবং ৪০ ভাগ নম্বর পেয়েছে তারাই গণিত বিষয় চয়েজ দেবে। কিন্তু এইচএসসির মার্কসিট আমাদের হাতে নেই। এখন কেউ যদি চয়েজ দিয়ে থাকে? তার নিজের দায়িত্বে বিষয় চয়েজ দিয়েছে। চয়েজ দেয়ার সময় সে গণিত ক্লিক করে নিয়ে গেছে সেটা কি আমার দোষ? আমি কি তাকে তাকে ক্লিক করা ছাড়া সাবজেক্ট দিয়েছি? ম্যানুয়্যালি হলে একটা কথা ছিল।’

সামান্য কারিগরি ত্রু টি হয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘যাদের এরকম সমস্যা হয়েছে তাদের মধ্যে ৫০ ভাগের মত শিক্ষার্থীর সমস্যা সমাধান হয়েছে। তাদেরকে এখন অন্য বিষয় দিয়ে দিচ্ছি। বাকিগুলোরও সমাধান হয়ে যাবে।’

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *