,

সংবাদ শিরোনাম :

সরকার ঘোষিত মজুরি কাঠামো পুনর্নির্ধারণ

আওরঙ্গজেব কামাল : সরকার ঘোষিত মজুরি কাঠামো পুনর্নির্ধারণের পর টানা সাত দিন আন্দোলন শেষে আজ সোমবার সকালে কাজে যোগ দিলেও সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের ১০ কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভে নেমে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেছে।
জানা যায়, সকালে আশুলিয়ায় প্রায় ১০ কারখানায় প্রবেশের পর কারখানা কর্তৃপক্ষ আন্দোলনের সাত দিনের হাজিরা দিতে না চাইলে শ্রমিকরা কারখানা থেকে পুনরায় বেরিয়ে যান।
বাইপাইল এলাকার ফাউনটেন কারখানার জিএম মাসুদ রানা শ্রমিকদের জানান, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী তারা বেতন দেবেন। তবে যে কদিন শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ রেখে রাস্তায় আন্দোলন করেছেন, সে কদিনের বেতন তারা দেবেন না। এ সময় শ্রমিকরা জিএম মাসুদের কথায় রাজি না হয়ে কাজে যোগ দেননি। ফলে কারখানার শ্রমিকরা আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন।
পরে টাঙ্গাইল জেলার এসপি মাসুদ রানার নেতৃত্বে এক দল পুলিশ তাদের কর্মস্থলে যেতে অনুরোধ জানালে তারা চলে যান।
বেলা ৯টার দিকে আশুলিয়ায় টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের ইউনিক, জামগড়া, বেরন ও নরসিংহপুর এলাকার বেশ কিছু করাখানার শ্রমিক একই ঘটনায় কারখানার ভেতরে প্রবেশ করার পর কাজ না করে বেরিয়ে যান।
এ ছাড়া জামগড়ার পলমল, হামীম, শারমিন গ্রুপ ও উইনডিসহ বেশ কিছু কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগদানের পর আবারও বেরিয়ে যান। এসব শ্রমিক জামগড়া ছয়তলা এলাকায় সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
সাভার আমিনবাজারের তুরাগ এলাকার পোশাক কারখানাগুলো শান্ত রয়েছে। কয়েকটি কারখানা এখনও বন্ধ রয়েছে।
সকাল ৯টায় একেএইচ পোশাক কারখানার এক শ্রমিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন এমন গুজবের কারণে ওই কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন।
পরে যখন তারা জানতে পারেন যে সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিক নিহত হয়নি, আহতের ঘটনা ঘটেছে, তখন আন্দোলনকারীরা ফিরে যান।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পরিদর্শক মাহমুদুর রহমান জানান, সকালে আশুলিয়ায় অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে যোগ দেন। সকাল ৯টার দিকে জামগড়া, নরসিংহপুর ও বেরন এলাকায় হামীম গ্রুপ, শারমিন গ্রুপ, এনভয় ও উইনডিসহ প্রায় ১০ কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন।
পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এসব কারখানার কর্তৃপক্ষ একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার থেকে সাভার ও আশুলিয়ার সব কারখানার শ্রমিকরা তাদের কাজে যোগ দেবেন বলে আশাবাদী।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
এ বিষয়ে গত কাল বানিজ্য মন্ত্রী বলেন দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাত কে এগিয়ে নিতে সব পক্ষকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশের মোট রপ্তানী আয়ের ৮৪ শতাংশ আসে পোশাক খাত থেকে ,এই শিল্পে কাজ করে প্রায় ৪০ লাক শ্রমিক। আর এই শ্রমিকরা বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবীতে আন্দোলন করে আসছে। গত প্রায় একসপ্তা ধরে আন্দোলন করে আসছে পোশাক শ্রমিকরা। তারা চায় তাদের ন্যায্য মুজুরি। ৭ম গ্রেডের বেতন অপরিবর্তীত থাকরেও বাকি ৬টি গ্রেটের তনুত বেতন নির্ধারন মেনে নিয়েছে শ্রমিক নেতারা। সংকট সমাধানে শ্রমিকদের প্রতি আহবান জানিয়ে মালিক কতৃপক্ষের নোতারা । বৈঠকে সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিজুল ইসলাম, বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম, হামিম গ্রুপের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ, জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু, জাতীয় শ্রমিক লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক বেগম শামছুন্নাহার ভূঁইয়া, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের মহাসচিব সালাউদ্দিন স্বপন, শ্রমিক নেতা অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ, সিরাজুল ইসলাম রনি, বাবুল আক্তার, নাজমাসহ মালিক-শ্রমিক নেতারা অংশগ্রহণ করেন। গতকাল সপ্তম দিনের মতো কর্মবিরতি, বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা। বন্ধ ছিল অর্ধশতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা। শিল্পাঞ্চলের অন্তত ১০টি পয়েন্টে থেমে থেমে সড়ক অবরোধের চেষ্টাকালে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। বেতন বৃদ্দি করলেও সোমবার আশুলিয়ায় কযেকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলন অব্যহত রাখে এসময় তারা গাড়ী ভাংচুর করেছে । কয়েক জন শ্রমিক অনন্ত গার্মেন্সের গেট ভা্গংার চেষ্টা করে এবং ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশের সাথে পোশাক শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কয়েক দফা দাবিতে আবাও মাঠে নেমেছেন পোশাক শ্রমিকরা। রাজধানী সহ মিরপুর, সাভার, ধামরাই, আশুলিয়ায় বেশ কয়েকটি পোষাক কারখানার শ্রমিকদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *