,

সংবাদ শিরোনাম :

রংপুরে চিকিৎসক গ্রেফতার, হাসপাতাল-ক্লিনিকে ধর্মঘট

ডেস্ক রিপোর্ট : রংপুরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে আল সিয়াম (৬) নামের এক শিশু মৃত্যুর অভিযোগে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ একজন চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্মচারীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারের প্রতিবাদে রোববার থেকে রংপুর ডায়াগোনস্টিক ও ক্লিনিক মালিক সমিতি ধর্মঘট শুরু করেছে। এছাড়া নগরীতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে চিকিৎসকরা।
রংপুর চিকিৎসক সমাজের ব্যানারে সব চিকিৎসক একযোগে ধর্মঘট শুরু করায় রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
জানা গেছে, শনিবার নগরীর ধাপ মেডিকেল মোড়ে বেসরকারি সেন্ট্রাল ক্লিনিক নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিকাল ৫টায় শিশু আল সিয়াম এর টনসিল অপারেশন করতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় ভুল অপারেশনে মারা যায় শিশু সিয়াম।
সিয়াম গাইবান্ধা জেলার গোয়ালী গ্রামের রেজ্জাকুল মিয়ার ছেলে।
রেজ্জাকুল বলেন, ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে আমার স্ত্রী লাকী বেগম ও ছেলের গলার টনসিল নিরাময়ের জন্য ক্লিনিকটির নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল হাইয়ের কাছে আসি। ১৮ হাজার টাকায় অপারেশনের চুক্তিতে দুপুর ২টার দিকে অপারেশন করার জন্য সিয়ামকে অপারেশন থিয়েটারে ঢোকানো হয়। এক পর্যায়ে সে মারা যায়।
খবর পেয়ে উত্তেজিত জনতা এবং স্বজনরা ক্লিনিক ভাংচুর করে সিয়ামের লাশ উদ্ধার করে এবং নিহত শিশুটির মাকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়। সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা রেজ্জাকুল মিয়া বাদী হয়ে শনিবার রাতে কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ রাতে চিকিৎসক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক,কান ও গলা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক চিকিৎসক আবদুল হাই ও ক্লিনিক কর্মচারী সুশান্ত দেবনাথকে গ্রেফতার করে। থানার মধ্যে চিকিৎসক আবদুল হাই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার জরুরি সভা ডাকেন রংপুরে কর্মরত সকল চিকিৎসক ‘রংপুর চিকিৎসক সমাজ’এর নামে। সেখানে বৈঠকে তারা রোববার বিকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ, বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ ঘোষণা করেছেন।
এ পরিস্থিতিতে রোববার প্রায় দুই হাজার রোগী বিভিন্ন চিকিৎসকের চেম্বারে অপেক্ষা করে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে গেছেন। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নির্ধারিত ৩০টি জরুরি অস্ত্রপাচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীর ও তাদের স্বজনরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এ নিয়ে রোববার বিকাল থেকে ধাপ ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার হয়।
কোতয়ালী থানার ওসি বাবুল মিয়া জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের হয়েছে। ওই মামলায় অধ্যাপক চিকিৎসক আবদুল হাই ও কর্মচারী সুশান্ত দেবনাথকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি জানান, সুশান্ত দেবনাথকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসক আবদুল হাই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গ্রেফতার অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।
শিশুটির লাশ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *