,

সংবাদ শিরোনাম :

ভারতে নারী অ্যাক্টিভিস্ট রেহানাকে মুরতাদ ঘোষণা!

ডেস্ক রিপোর্ট : সম্প্রতি ভারতের কেরালার রাজ্যের শবরীমালা মন্দিরে নারীদের প্রবেশ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক চলছিল। আর এর মধ্যেই সেই মন্দিরে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন মুসলিম নারী অ্যাক্টিভিস্ট রেহানা ফাতিমা। এ ঘটনাকে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ আখ্যায়িত করে তাকে মুরতাদ (ইসলাম থেকে বহিষ্কার) ঘোষণা করেছে দেশটির প্রভাবশালী এক মুসলিম ধর্মীয় সংগঠন।
কেরালা রাজ্যের প্রভাবশালী ধর্মীয় সংগঠন ‘দ্য কেরালা মুসলিম জামাত কাউন্সিল’ ঘোষণা করেছে, রেহানা ফাতিমা নামে ওই নারীর মুসলিম নাম ব্যবহার করার আর কোনো অধিকার থাকবে না। লাখ লাখ হিন্দু ভক্তর ‘ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত’ করার পরিপ্রেক্ষিতে কাউন্সিল তার বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে হাতিয়ার করে গত সপ্তাহে হাতেগোনা যে কয়েকজন নারী কেরালার শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেছিলেন, রেহানা ফাতিমা ছিলেন তাদেরই একজন।
গত শুক্রবার মন্দির খোলার পর তৃতীয় দিনে রেহানা ফাতিমা ও তার সঙ্গী কবিতা জাক্কালা নামে এক নারী সাংবাদিক শতাধিক পুলিশকর্মীর পাহারায় শবরীমালা মন্দিরের পাঁচশ মিটারের মধ্যে পৌঁছেও গিয়েছিলেন। কিন্তু পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত ওই মন্দিরে প্রবেশ করার আগেই তুমুল বিক্ষোভের মুখে তাদের ফিরে আসতে হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি রেহানার বাসভবনে হামলা চালায়। সে সময় তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘আমার জীবনের ওপরও হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। এমনকি আমার বাচ্চারা নিরাপদে আছে কি না সেটাও জানি না।’
রেহানা ফাতিমা যেভাবে শবরীমালায় ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন, তার তীব্র নিন্দা জানায় বিজেপিসহ বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী দল। তামিলনাডুতে বিজেপির সভাপতি টি সৌন্দরারাজন টুইট করেন, ‘শবরীমালা হলো বিশ্বাসীদের উপাসনার জায়গা। কিন্তু বহু বছর ধরেই অবিশ্বাসী ও অ্যাক্টিভিস্টরা সেখানে গিয়ে অন্যের ধর্মবিশ্বাসকে নষ্ট করতে চাইছে।’
তিনি লেখেন, ‘অ্যাক্টিভিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতার ছদ্মবেশে অন্য ধর্মের মৌলবাদীরাও যেভাবে এখন সেখানে ঢুকতে চাইছে, আমি তাতে স্তম্ভিত। হিন্দুদের এভাবে আঘাত করার চেষ্টা অতি নিন্দনীয়।’
কেরালার খ্রিষ্টান বিধায়ক পি সি জর্জও দাবি তোলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি নষ্ট করার অপরাধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩(এ) ধারা অনুযায়ী রেহানা ফাতিমাকে গ্রেপ্তার করা উচিত।
এরপরই ‘দ্য কেরালা মুসলিম জামাত কাউন্সিল’ সিদ্ধান্ত নেয়, রেহানা ফাতিমাকে ইসলাম থেকেই বহিষ্কার করা হবে। কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘তিনি যা করেছেন সেটা হিন্দুদের ধর্মবিশ্বাসের পরিপন্থী।’
তিনি আরও বলেন, ‘ আগেও বিভিন্নভাবে সমালোচিত হয়েছেন রেহানা। তিনি ‘কিস অব লাভ’ (প্রকাশ্যে চুম্বন) প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন। নগ্ন হয়ে সিনেমাতে অভিনয়ও করেছেন। এরপর কোনো মুসলিম নাম নিয়ে চলার অধিকার তার নেই বলেই আমরা মনে করি।’

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *