,

সংবাদ শিরোনাম :

বিজেপির ‘হিন্দু জালে’ ভোট ধরবে কংগ্রেস

ডেস্ক রিপোর্ট : ভারতের পাঁচ রাজ্যে এখন বিধানসভা নির্বাচনের জোয়ার। এই নির্বাচনকে ‘সেমিফাইনাল’ বলছেন অনেকেই। এরপরই ২০১৯ সালের ‘ফাইনাল’ লোকসভা নির্বাচন। বিধানসভা নির্বাচনে ইতিমধ্যে মাঠেও নেমে পড়েছে সব দল। সবাই যার যার নিজ কৌশলে মন্ত্র পড়ছেন।

কিন্তু লক্ষ্য একটাই- ভোটারদের মন জয়। আর এ দৌড়ে জিততে ১৫ বছরের প্রচারণা কৌশল আগাগোড়া পাল্টে ফেলেছে কংগ্রেস। সরে এসেছে দলের মূলনীতি ধর্ম-নিরপেক্ষতা ও সামাজিক গণতন্ত্রের পথ থেকেও।

ক্ষমতাসীন বিজেপি যেমন হিন্দুত্ববাদের ধোয়া তুলে ক্ষমতার স্বাদ নিচ্ছেন। সেই একই ‘জালে’ ভোট ধরতে চাচ্ছে কংগ্রেসও। ২০০৩ সালে যে হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে লড়াই, ২০১৮-তে এসে সেই হিন্দুত্ববাদের সঙ্গেই কোলাকুলি।

১২ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, মিজোরাম, রাজস্থান ও তেলেঙ্গানার নির্বাচন। শেষ ৭ ডিসেম্বর, ফল ঘোষণা ১১ ডিসেম্বর। এই পাঁচ রাজ্যে শুধু মিজোরামে ক্ষমতায় কংগ্রেস। বাকি চারটিতে ২০০৩ সাল থেকে প্রত্যেক নির্বাচনেই ভরাডুবি। ফলে ১৫ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে। এবার যে করেই হোক ক্ষমতায় ফিরতে হবে।

তাই গণতন্ত্রের পথ ছেড়ে বিজেপির হিন্দুত্ববাদেই শামিল হয়েছেন কংগ্রেসের কাণ্ডারি রাহুল গান্ধী ও দলের নেতারা। ২০১৪ সালে মোদি ঝড়ের ‘হিন্দুত্ব কৌশল’কেই এবার ‘বিজয়ের বাতিঘর’ বেছে নিয়েছেন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া কংগ্রেস। যেটাকে সম্পূর্ণ ‘ইউটার্ন’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ভোটের ধুমধাম চলা রাজ্যগুলোর মধ্যে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে বর্তমানে ক্ষমতায় আছে বিজেপি। তেলেঙ্গানায় তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি বা টিআরএস এবং মিজোরামে কংগ্রেস। সম্প্রতি এবিপি আনন্দের এক সমীক্ষায় আভাস দেয়া হয়েছে, পাঁচ রাজ্যের তিনটিতে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কংগ্রেসের। কংগ্রেসের হিন্দুত্ববাদ কৌশল কাজে দিচ্ছে তা এই জরিপ থেকেই স্পষ্ট। নীতি আঁকড়ে ধরে মধ্যপ্রদেশে হারের লজ্জাও কম না কংগ্রেসের।

২০০৩ সাল থেকে বিজেপির হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে এসেছে কংগ্রেস। বিজেপির গো-রক্ষা আন্দোলনের নামে মুসলিম পীড়ন ও মসজিদগুলোকে প্রাচীন হিন্দু মন্দির আখ্যা দেয়ার বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন এর নেতারা। ২০০৮ এবং ২০১৩ সালের নির্বাচনেও তাদের অবস্থান খুব একটা বদলায়নি। ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের পক্ষেই ছিল অবস্থান।

কিন্তু তিন তিনবারের পরাজয়ের পর এবার দলের সেই অবস্থান থেকে সরে বিজেপির ফর্মুলাই গ্রহণ করেছে দলটি। দলের প্রধান রাহুল থেকে শুরু করে অপরাপর শীর্ষস্থানীয় কংগ্রেস নেতারা হিন্দুত্ববাদের সমর্থক-ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও ধর্মাশ্রিত ভাষাভঙ্গি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে। এখন কংগ্রেসের কারও কারও দাবি, তারা বিজেপির চেয়েও ‘বেশি হিন্দু।’ এখানেই শেষ নয়।

সম্প্রতি রাহুল গান্ধীকে নিয়ে করা পোস্টারে কংগ্রেস তার ব্রাহ্মণ পরিচয়কে সামনে এনেছে। বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যগুলোকে ছেয়ে ফেলা হয়েছে সেসব পোস্টারে। চলতি বছরের আগস্টে কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবরে তীর্থ যাত্রা করেন রাহুল। কৈলাস পর্বতের মানস সরোবরে তীর্থ যাত্রার পর সেপ্টেম্বরে রাহুল তার নির্বাচনী এলাকা আমেথিতে যান। সেখানে কংগ্রেস সমর্থকরা তাকে ‘হর হর মহাদেব’ স্লোগানের সঙ্গে বরণ করে নেন। আমেথিতে তাকে ‘শিবভক্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে পোস্টারও লাগানো হয়। সেখানে তিনি শিবের প্রতি পুষ্পাঞ্জলিও অর্পণ করেন। এ সময় গেরুয়া বসনে থাকা কংগ্রেস কর্মীরা ‘বোম বোম ভোলে’ স্লোগানে মুখরিত করে রেখেছিলেন সভাস্থল।

তবে রাহুলের এই ‘হিন্দুত্ববাদ’ মেনে নিতে পারছে না বিজেপি। তাদের বক্তব্য, ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টায় হিন্দুত্ববাদী ভোল ধরেছেন রাহুল। রাহুলের তীর্থযাত্রা তাদের ভাষায়, ‘হানিমুন ট্যুরিজম।’ এর প্রতিবাদে কংগ্রেসের নেতা রণজিৎ সুরজেওয়ালা বলেছেন, বিজেপি এমন ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে ‘মহাদেব ও মা পার্বতীর গৃহের অবমাননা’ করেছে। তার ভাষ্য, ‘আমরা মহাদেবের কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি বিজেপি নেতাদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেন।’ টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, কৈলাসের তীর্থযাত্রা থেকে ফেরত আসার পর রাহুলকে ‘শিবভক্ত’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে কংগ্রেস।

১৭ সেপ্টেম্বর ভোপাল ছেয়ে যায় তার পোস্টারে, যেখানে তাকে ‘শিবভক্ত’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। ২৭ তারিখ থেকে মধ্যপ্রদেশের বিন্ধ্যাচল অঞ্চলে কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারণার শুরু করেন রাহুল। এই কাজ শুরুর আগে তিনি চিত্রকূট শহরের কামতা নাথ মন্দিরের বিখ্যাত রাম দরবার দর্শন করে আসেন। হিন্দু ধর্মের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৪ বছরের জন্য বনবাসে যাওয়া রাম সেখানেই ১২ বছর কাটিয়েছেন। চিত্রকূটে ‘শিবভক্ত’ রাহুলকে নতুন আরেকটি পরিচয়ে পরিচিত করিয়ে দেয়া হয়। এবার তার পরিচয় হয় ‘রামভক্ত পণ্ডিত রাহুল গান্ধী’। সেই অনুযায়ী পোস্টারও ছাপানো হয়। সেখানে দেখা যাচ্ছে হিন্দু দেবতা রামের পাশেই রাহুলের ছবি।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *