,

সংবাদ শিরোনাম :

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ চলছে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

শঙ্কর জীৎ সমদ্দার ভান্ডারিয়া থেকে : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, আজ বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ চলছে, দেশ জুড়ে আলোর নেটওয়ার্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি ঘর আলোকিত হওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশে একটি নতুন বাংলাদেশ তৈরী হয়েছে। এই বিদ্যুতায়নের ফলে বাংলাদেশে এখন মানুষের মধ্যে কর্মক্ষমতার এক স্ফুরণ সৃষ্টি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আগামীতে বিদ্যুতের সদ্ব্যবহার করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে আরও সমৃদ্ধশালী করা হবে। তিনি গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া গ্রামে একটি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র উদ্বোধন উপলক্ষে ধাওয়া রাজপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিরাট সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন দেশের প্রতিটি এলাকা শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক সহাবস্থানের মধ্যে দিয়ে যেন আগামী দিনের নতুন বাংলাদেশ তৈরী হয়। পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে বিগত ৩৪ বছরে ভান্ডারিয়ায় সহাবস্থানের একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি-জেপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয় যে অভূতপূর্ব পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তা খুবই সুন্দর এবং দেশের অন্য এলাকায় এরকম অবস্থা আছে কিনা তা আমার জানা নাই। রাস্তা দিয়ে আসার সময় দেখছিলাম এই নিভৃত গ্রাম সবুজে ভরা, মানুষ গুলো আরও সুন্দর। এই বরিশাল অঞ্চলের মানুষ মন খুলে কথা বলে, সৎ ও শক্ত মনোবলের অধিকারী। এ অঞ্চলে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়ে শিল্প-কলকারখানা স্থাপন করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি বরিশাল বিভাগে বর্তমান ৫০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ স্থলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে চাহিদা বাড়বে ২০ হাজার মেগাওয়াট। প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালী ও বরিশাল অঞ্চলে বিশাল বরাদ্দ দিয়ে দিয়েছেন। এখানে পাইপ লাইন দিয়ে গ্যাস নিয়ে এসেছেন। এখানে কলকারখানা বানানো ও পাওয়ার প্লান্ট বানানোর কাজ শুরু করে দেয়া হয়েছে। এ অঞ্চলের নিজেদের প্রচেষ্টা আস্থা ও বিশ্বাস রাখেন। তারা সৃজনশীল কিছু না কিছু করতে চান। প্রত্যেক ঘর-বাড়িতে যান, দেখবেন সবাই কিছু না করছেন। অন্য এলাকার মানুষের মত অলস বসে না থেকে গাছের চারা লাগাচ্ছেন, ধান চাষ করছেন। যা প্রচুর সম্ভাবনাময়। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ জ্বলে, ফ্যান চলে, টিভি চলে, বিদ্যুতের আলোয়ে ছেলে-মেয়েরা লেখা পড়া করে, মহিলারা ঘরে বসে রাতে ছোট-খাটো কাজ করে। গ্রামে গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা থাকে। চায়ের দোকানে ব্যবসা বেড়ে গেছে। মানুষ রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা, ক্রিকেট খেলা, সাকিব আল হাসানকে নিয়ে গল্প করে। অথচ আগে সন্ধ্যা হলেই মানুষ ঘুমিয়ে যেত, সারা বাংলাদেশ এখন যেন কর্মক্ষমতা ফিরে পেয়েছে। সেই দুর্গম পার্বত্য চট্টগ্রামের বরকলের একটি বাজারে ৮০ বছরের এক বৃদ্ধ বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে কৃতজ্ঞতা ভরে বলেছিলেন এই বয়সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য বিদ্যুতের আলো দেখলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৪ঘন্টা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। মনপ্রাণ দিয়ে এদেশের মানুষকে ভালবাসেন এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের এক নম্বর দেশে পরিনত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর নির্দেশে আগামী ৩/৪ মাসের মধ্যে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতায়ন করা হবে এবং দেশে শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হবে। বিদ্যুতায়নের সাথে মানুষ সম্পদ উন্নয়নের সূচকের সম্পর্ক রয়েছে। যে যত বেশী বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সে তত স্বাস্থ্যগতভাবে, শিক্ষাগতভাবে ভাল থাকে। এ অঞ্চলের গণমানুষের আপনজন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আজ থেকে ৩৪ বছর আগে বিদ্যুৎ মন্ত্রী ছিলেন, তার অভিজ্ঞতা অনেক। তিনি অত্যন্ত কম বয়সে এ দায়িত্ব পালন করেছেন। যা আমাদের অবাক করে। শেখ হাসিনা সরকারের সবচেয়ে সফল যোগাযোগ মন্ত্রী হিসাবে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে তিনি যোগাযোগ ব্যবস্থার নেটওয়ার্ক তথা ভিত তৈরী করেছেন। মঞ্জু চাচার সাথে আমার পারিবারিক সম্পর্ক ৫০ বছর ধরে। তিনি এ অঞ্চলের জন্য সব সময় ভাবেন এবং কাজ করেন বলে আজকে যে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র উদ্বোধন করলাম তার জন্য আমার কাছে সরাসরি গিয়েছিলেন। এই বয়সেও তাঁর এই আগ্রহ ও কাজের প্রতি দরদ দেখে আমি অভিভূত হয়েছি এবং তাঁরই আমন্ত্রণে ভান্ডারিয়ায় এসেছি। আগামী নির্বাচনে আপনারা মঞ্জু চাচাকে আবারও নির্বাচিত করবেন তাঁর মত লোক না হলে আপনার ইচ্ছা শক্তি বাস্তবায়ন হবে না। আজকে আমি ভান্ডারিয়ায় যা দেখে গেলাম সারা বাংলাদেশে আগামীতে যাবো এবং ভান্ডারিয়ার উদাহরণ দিয়ে বলবো মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখা গেলে একজন নেতার পক্ষে কি করে একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থাকে বদলে দেয়া যায়। সুধী সমাবেশে সম্মানিত অতিথি জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান ও পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, আমাদের এলাকার মানুষ সুবিধা বঞ্চিত বলে অধিক সুবিধাভোগী ঢাকার মানুষের সাথে আমরা সমন্বয় করে কাজ করি। তাই তুলনামূলক ভাবে আমাদের উন্নয়ন কাজ করা অনেকাংশে সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি ৩৪ বছর ধরে এলাকায় যে কথা বলে এসেছি আবারও কাজের প্রশ্নে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এলাকার মানুষকে কাইজ্যা-বিবাদ-বিভেদ-ঝগড়া-ঝাটি ভুলে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে হবে। এলাকায় ঐক্য ও শান্তি বিদ্যমান থাকলে উন্নয়ন বরাদ্দকারীরা সে এলাকায় কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আজকে ভান্ডারিয়া বাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। এখানে আরও একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনার সরকারের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের পিতার সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিলো। বর্তমান মন্ত্রী সভায় তাঁর মত অনেক তরুণ সদস্য থাকায় আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। তাঁরা দ্রæততম সময় অনেক সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। সেজন্য উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিত হয়। আজ যে সাবস্টেশনটির নির্মাণ শুরু হলো তা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এই জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তাঁকে ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে।
ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ভান্ডারিয়া উপজেলা জেপি’র সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান টুলুর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সদস্য (বিতরণ ও পরিচালন) মোস্তফা কামাল, ভান্ডারিয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুুকদার উজ্জল, ভান্ডারিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেপি’র উপজেলা আহŸায়ক মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফাইজুর রশীদ খসরু। সুধী সমাবেশে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন হাফিজুর রশীদ তারিক। এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভান্ডারিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন আক্তার সুমী, উপজেলা জেপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহŸায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, নদমূলা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল কবির তালুকদার বাবুল, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চৌধুরী, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান খান এনামুল কবির পান্না, ইকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির প্রমুুখ। পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নে ‘ভান্ডারিয়া-২, ১০এমভিএ ৩৩/১১ কেভি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র’ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবির, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বরিশাল জোনের তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী দিপঙ্কর মন্ডল, পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান, পিরোজপুর পল্লী বিদু্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক শংকর কুমার কর প্রমুখ। এ সময় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল মঙ্গলবার রাতে ভান্ডারিয়ায় এক অনুষ্ঠানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভান্ডারিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় নদমূলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে উক্ত ইউনিয়নের গভীর নলকূপ প্রাপ্তদের মাঝে বরাদ্দপত্র বিতরণ করেন।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *