,

সংবাদ শিরোনাম :

দুঃখের মাঝেও সুখে থাকার কথা ব্যাক্ত করলেন জলঢাকার প্রতিবন্ধী দম্পতি

মোঃ হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, জলঢাকা, নীলফামারী প্রতিনিধি ঃ স্বামী আর স্ত্রী, বানাইছে কোন মিস্ত্রি, সে বড় আজব কারিগর, মনোরে, সে বড় আজব কারিগর। শিল্পী ফকির আলমগীরের গাওয়া সেই গানটি মনে করে দেয় এই প্রতিবন্ধী দম্পতির পথ চলাকে। ভালবাসা মানুষকে নতুন করে বেচেঁ থাকার প্রেরণা যোগায়, আর ভালবাসা থাকলে দুখের মাঝেও সুখ খুজে পাওয়া যায়। তারই বাস্তব প্রতিফলন ল করা গেছে এই প্রতিবন্ধী দম্পতির মাঝে। পেশায় দুজনই ভিুক। বয়সের শেষ প্রান্তে দাড়িয়েছে তারা। তবুও থেমে নেই ওদের জীবন চলার পথ। তাদের ভালবাসার কাছে হার মেনেছে দারিদ্র্যতা। মঙ্গবার পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড চেরেঙ্গা এলাকার রাস্তায় একটি ট্রাই সাইকেলে বসে হাত দিয়ে পেডেল ঘুরাতে ঘুরাতে শারীরিক ওই প্রতিবন্ধী দম্পতি গল্প করতে করতে তাদের বাড়ি ফেরার সময় আমাদের প্রতিনিধির চোখে পড়ে এবং এই চিত্রটি ধারণ করার জন্য তাদের দার করিয়ে ক্যামেরা বের করা হলে তারা একটু উত্তেজিত হয়ে বলেন, হামা ভালো আছি, ফটোক তোলেন না বলেই চলে যেতে থাকলে ওই প্রতিবন্ধী দম্পতির মধুর সম্পর্ক দেখে আবারও দার করা হয় এবং তাদের ঠিকানা ও পরিবার সম্পর্কে জানতে চাইলে জানান, হামার একটা ব্যাটা আছিলো মরি গেইছে, আর একনা ব্যাটির বিয়াও দিছি, এখন হামা এই দুইজন ছাড়া বাড়িত কাহো নাই। তারা আরোও জানায়, হামা ভিা করি খাই সারাদিন যা পাই সেইলা দিয়ায় ভালো দিন যায়। এ দম্পতির নাম জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলেন, আবার নাম দিয়া কি হইবে ? বলেই চলে যায়। পরে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির সে সময় দেখা হলে তিনি জানান, ওই প্রতিবন্ধী দম্পতি হলেন, জলঢাকা পৌরসভার ঝারপাড়া গ্রামের মৃত ফটিক চন্দ্রের ছেলে ওপিন চন্দ্র ও তার স্ত্রী তরু বালা। একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ১০ ভাগ কোনও না কোন ভাবে প্রতিবন্ধীতার শিকার। এদের মধ্যে বেশীর ভাগই দারিদ্র্য সীমার নিচে এবং গ্রামে বাস করে। বেশির ভাগ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সেবা ব্যবস্থা থেকে বাদ পরে যায়। ফলে তারা উন্নয়নের মূলস্রোত ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন। এদের মধ্যে শারীরিক প্রতিবন্ধীতা নিয়ে প্রায় ২৮ ভাগ (বাংলাদেশে প্রতিবন্ধীতা, একটি সমীবা- ২০০৫, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম ও হ্যান্ডিক্যাম ইন্টারন্যাশনাল) মানুষ সমাজে বসবাস করছে। প্রতিবন্ধীতা বিষয়টি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় শিা, প্রশিণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণ ও সুযোগের অপ্রতুলতা রয়েছে। ফলে শারীরিক প্রতিবন্ধীরা সঠিক পুনঃবাসন সেবা যেমন সহায়ক উপকরণ ইত্যাদি থেকে অনেকই বঞ্চিত হয়। নানান সামাজিক প্রচেষ্টা থেকে চলাচলে সমস্যা রয়েছে এমন শারীরিক প্রতিবন্ধী সহায়ক উপকরণ পেলেও এর সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে কোনও প্রশিণ ও ব্যায়ামের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পায়না। ফলে নানান ধরনের শারীরিক জটিলতার শিকার হতে হয় তাদের।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *