,

সংবাদ শিরোনাম :

জাতিসংঘে ভারত-পাকিস্তান বাগ্‌যুদ্ধ, ‘ইস্যু’ ডাকটিকিট

ডেস্ক রিপোর্ট : দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক বাতিল হওয়া নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জাতিসংঘে তীব্র বাগ্যুদ্ধে জড়ি পড়েন গত শনিবার। নিউ ইয়র্কে ওই দিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বৈঠক বাতিল নিয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরস্পরকে দোষারোপ করেন। এ সময় ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসের প্রজননকেন্দ্র’ বলার পাল্টা জবাবে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের বিরুদ্ধে ‘শান্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে রাজনীতি’ করার অভিযোগ আনেন।

সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে চলতি সপ্তাহেই ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এ বৈঠকের প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি কাশ্মীরে তিন ভারতীয় পুলিশকে হত্যা এবং ওই অঞ্চলে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে বিতর্কিত ডাকটিকিট প্রকাশ করার পর নয়াদিল্লি এই বৈঠক বাতিল করে।

সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে সুষমা স্বরাজ বৈঠকটি বাতিল করার ব্যাপারে ভারতের অজুহাত খোঁজার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আলোচনা বানচাল করার জন্য আমাদের অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার।’

এ সময় সুষমা পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসের প্রজননকেন্দ্র’ আখ্যায়িত করে বলেন, তারাই ওসামা বিন লাদেনের জন্য ‘নিরাপদ আশ্রয়’ গড়ে তুলেছিল। তারাই ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি আরো বলেন, ‘পাকিস্তান খুনিদের মহিমান্বিত করে। তারা নিরপরাধ মানুষের রক্তপাতের বিষয়টি এড়িয়ে যায়।’

প্রসঙ্গত, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে হিমালয়ী ভূখণ্ড কাশ্মীরে সশস্ত্র বিদ্রোহী গ্রুপগুলোকে তারা অস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু পাকিস্তান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

পরে শনিবারের ওই অধিবেশনে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি ভারতের প্রতি পাল্টা আঘাত হানেন। তিনি বলেন, ভারত এ পর্যন্ত তিনবার বৈঠক বাতিল করেছে এবং প্রতিবারই তা করা হয়েছে তুচ্ছ কারণে।

শাহ মাহমুদ কোরেশি বলেন, ‘তারা (ভারত) শান্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে রাজনীতি করে। তারা (এবার) টিকিটের অজুহাত তুলছে। অথচ এটি (ডাকটিকিটি) কয়েক মাস আগের ইস্যু, যাতে কাশ্মীরি আন্দোলনকারী এবং সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তাতে ছররা বন্দুকের বিষয়টিও উঠে এসেছে। এই সবই আলোচনা বাতিলের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, পাকিস্তান সম্প্রতি ২০১৬ সালের ভারতীয় বাহিনীর হাতে নিহত কাশ্মীরি বিদ্রোহী নেতা বুরহান ওয়ানির ছবিসহ ভারতীয় বাহিনীর ছবি নিয়ে একাধিক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। এই ঘটনা ভারতকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।

এ ব্যাপারে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইমরান খানের নির্বাচন ছিল দুই মাস আগে, ডাকটিকিট প্রকাশ করা হয়েছে আরো আগে। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানে মৌলিক পরিবর্তন আসে এবং তাঁর দেশ কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের জন্য সংলাপ চেয়ে আসছে। এই সংলাপের আহ্বান সত্ত্বেও কোরেশি ভারতকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কাশ্মীরে যদি অস্ত্রবিরতি রেখা লঙ্ঘন করা হয়, তাহলে কঠিন ও উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *